ঢাকাশুক্রবার , ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

কলিমাখালীতে ডব্লিউএফপি’র অর্থায়নে রাস্তার কাজে অনিয়মের অভিযোগ

বার্তা বিভাগ
ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬ ৮:২০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নিজস্ব প্রতিনিধি:

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার কলিমাখালী এলাকায় নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের পুনঃসংস্কার প্রকল্পের আওতায় কলিমাখালী সরকারি প্রাইমারি স্কুল থেকে মাস্টার লুতফুর রহমানের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৮০০ ফুট রাস্তা পাকা করণের কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পুনর্বাসন হিসেবে প্রকল্পটির অর্থায়ন করে জাতিসংঘের খাদ্য কর্মসূচি ডব্লিউএফপি (World Food Programme)। স্থানীয়ভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় বেসরকারি সংস্থা সুশীলন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পটির মোট বরাদ্দ ছিল ৪৯ লাখ টাকা। সরকারি ভ্যাট ও ট্যাক্স বাদে প্রায় ৪৬ লাখ টাকার কাজ বাস্তবায়নের কথা।

অভিযোগ রয়েছে, টেন্ডারে ৭-৮ জন অংশ নিলেও শেষ পর্যন্ত কাজটি দেওয়া হয় দেবহাটা উপজেলার ঠিকাদার মো. আবুল কালামকে, যিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কিছু কর্মকর্তার আস্থাভাজন বলে স্থানীয়দের দাবি। কাজ শুরুর পর থেকেই নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্ধারিত মানের বালু ব্যবহার না করে পুরনো ভাঙা ইট দিয়ে নিচের বেস তৈরি করে তা বালু দিয়ে ঢেকে দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ১ নম্বর ইটের পরিবর্তে ২ নম্বর ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। এলাকাবাসী বাধা দিলে তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দেওয়ার ভয় দেখানো হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগের সঙ্গে বাস্তবতার মিল পাওয়া গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এ বিষয়ে ঠিকাদার মো. আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করে বলেন, “আমার অফিসের সঙ্গে সব ঠিক আছে, আপনাদের সঙ্গে আমার কোনো কথা নেই।”

আশাশুনি উপজেলার সংশ্লিষ্ট ইঞ্জিনিয়ার ও পিআইও’র সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের ফোনে পাওয়া যায়নি।

এলাকাবাসীর দাবি, দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় যদি নিম্নমানের কাজ করা হয়, তবে অল্প সময়েই রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং সরকারের পাশাপাশি দাতা সংস্থার অর্থও অপচয় হবে। বিদেশি অর্থায়নের প্রকল্পে যদি স্থানীয় ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন, তবে সাধারণ মানুষের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হবে বলে মন্তব্য করেন তারা।

স্থানীয়রা সংশ্লিষ্ট দপ্তর, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং দাতা সংস্থার দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।