ঢাকাসোমবার , ২৩ মার্চ ২০২৬

যেকোনো সময় বন্ধ হতে পারে পেট্রোল পাম্প

বার্তা বিভাগ
মার্চ ২৩, ২০২৬ ৩:১৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

দেশজুড়ে জ্বালানি তেলের সরবরাহ সংকট ও ভয়াবহ নিরাপত্তাহীনতার জেরে পেট্রোল পাম্পগুলো কার্যত অচল হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, যেকোনো সময় পাম্পগুলো বন্ধ হয়ে যেতে পারে এমনই আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের। সাতক্ষীরায় পেট্রোল পাম্প পরিদর্শনে গিয়ে এই উদ্বেগজনক চিত্রই সামনে এসেছে।

সোমবার (২৩ মার্চ) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সাতক্ষীরা-২ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক শহরের কপোতাক্ষ ফিলিং স্টেশন ও লস্কার ফিলিং স্টেশন আকস্মিকভাবে পরিদর্শন করেন। এসময় পাম্পগুলোতে তেলের মজুত, বিক্রয় কার্যক্রম এবং হিসাবপত্র খতিয়ে দেখেন তিনি।

পরিদর্শনে উঠে আসে একাধিক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। জানা গেছে, একটি চক্র কৃত্রিম সংকট তৈরি করে তেল বিক্রি সীমিত করছে, আবার অন্যদিকে কিছু অসাধু মোটরসাইকেল চালক দিনে একাধিকবার তেল নিয়ে তা উচ্চ দামে বিক্রি করছে। এতে প্রকৃত ভোক্তারা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন এবং পাম্প এলাকায় বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে।

কপোতাক্ষ ফিলিং স্টেশনের মালিক মো. শুকুর আলী সরদার অভিযোগ করে বলেন, “সরবরাহ একেবারে বন্ধ না হলেও চাহিদার তুলনায় অনেক কম। তার ওপর কিছু ব্যক্তি পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। অনেকেই দিনে ৫-৭ বার পর্যন্ত তেল নিচ্ছেন, যা নিয়ন্ত্রণ না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।”

এদিকে জ্বালানি পরিবহনেও দেখা দিয়েছে মারাত্মক নিরাপত্তা ঝুঁকি। ডিপো থেকে পাম্পে তেল আনার পথে ট্যাংকার লুটের আশঙ্কা বাড়ছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে এমন সতর্কবার্তাও দিয়েছেন পাম্প মালিকরা।

পরিদর্শনকালে এমপি মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক সাধারণ মানুষের অভিযোগ শোনেন এবং কৃত্রিম সংকট ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন আগরদাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. কবির হোসেন ও সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান প্রার্থী শহীদ হাসানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, জ্বালানি সরবরাহে দীর্ঘদিনের ঘাটতি, অব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তাহীনতা মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। প্রতিদিনের সীমিত সরবরাহ দিয়ে বাড়তি চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন, কর্মীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ এবং সার্বিক বিশৃঙ্খলা এখন নিত্যদিনের চিত্র।

সবকিছু মিলিয়ে জ্বালানি খাতে এই অস্থিতিশীলতা অব্যাহত থাকলে শুধু সাতক্ষীরা নয়, দেশের বিভিন্ন জেলায় পেট্রোল পাম্প বন্ধ হয়ে যাওয়ার বাস্তব আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যা জনজীবন ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।