
স্টাফ রিপোর্টার :
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন বহনে নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (এমআরএ)।
এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রিসাইডিং অফিসার, পুলিশ ইনচার্জ ও আনসার সদস্য ছাড়া অন্য কেউ মোবাইল ফোন নিয়ে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন না। এর ফলে সংবাদ সংগ্রহে নিয়োজিত মাল্টিমিডিয়া ও মোবাইল সাংবাদিকেরা ভোটকেন্দ্রের আশপাশের প্রায় ৮০০ গজ এলাকায় প্রবেশের সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন।

এমআরএর মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত সংবাদ সংগ্রহ ও প্রচারে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে এবং এটি সংবিধানস্বীকৃত মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পরিপন্থি।
সংগঠনের সভাপতি ফখরুল ইসলাম বলেন, “এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে সংবাদ সংগ্রহ ও প্রচার কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল সময়ে মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকেরা দায়িত্বশীল ও সাহসী ভূমিকা রেখে দেশবাসীকে তথ্য জানিয়ে আসছেন।”
তিনি আরও বলেন, “অতীতের বিভিন্ন জাতীয় সংকট ও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায় মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকেরা নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে জাতিকে তথ্য জানাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। অথচ বর্তমান সিদ্ধান্ত তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে।”
এমআরএর সাধারণ সম্পাদক আক্তারুজ্জামান বলেন, “মোবাইল ফোন ছাড়া মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকদের পক্ষে ভোটকেন্দ্রে সংবাদ সংগ্রহ কার্যত অসম্ভব। এতে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
তিনি অবিলম্বে এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে সাংবাদিকদের মোবাইল ফোনসহ ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ ও পেশাগত দায়িত্ব পালনের অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানান।
এমআরএ আশা প্রকাশ করেছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালনের পথ সুগম করবে।
