ঢাকাশনিবার , ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

নিষিদ্ধ এলাকায় ১০ মণ শাপলা পাতা মাছ শিকার, ২২ জেলেসহ ২টি ট্রলার জব্দ

বার্তা বিভাগ
ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬ ১০:০১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নিজস্ব প্রতিনিধি:

সংরক্ষিত বনাঞ্চলে আইন অমান্য করে দেদারসে মাছ শিকার এ যেন বন আইনের প্রতি প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ! অবশেষে কঠোর অভিযানে সুন্দরবন-এর মান্দারবাড়িয়া অভয়ারণ্য এলাকায় শিকার নিষিদ্ধ প্রায় ১০ মণ (৪১০ কেজি) শাপলা পাতা মাছসহ ২২ জেলেকে হাতেনাতে আটক করেছে বনবিভাগ।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে আটক জেলেদের নিয়ে লোকালয়ে ফেরেন বনবিভাগের সদস্যরা। এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে দুটি ট্রলারসহ বিপুল পরিমাণ অবৈধ সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।

জব্দ করা হয়েছে যা

৪১০ কেজি শিকার নিষিদ্ধ শাপলা পাতা মাছ,

মাছ ধরার দড়ি, বড়শি ও অন্যান্য সরঞ্জাম

বরফের বক্স, ২টি ট্রলার।

বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, অভয়ারণ্যের ভেতরে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এলাকায় অনুমতি ছাড়াই সংঘবদ্ধভাবে মাছ শিকার চলছিল। এতে বিপন্ন হচ্ছে জীববৈচিত্র্য, ধ্বংস হচ্ছে প্রাকৃতিক প্রজননক্ষেত্র।

বাংলাদেশ বন বিভাগ-এর সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মশিউর রহমান বলেন, “অভয়ারণ্য এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশ ও মাছ শিকারের অভিযোগে অভিযান চালিয়ে ২২ জনকে আটক করা হয়েছে। বন আইনে মামলা দায়ের করে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। সুন্দরবনের সম্পদ রক্ষায় অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

আটক জেলেরা পটুয়াখালী ও বাগেরহাট জেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। বনবিভাগের দাবি, এ ধরনের অপরাধীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর নজরদারি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সংরক্ষিত এলাকায় বারবার এ ধরনের অনুপ্রবেশ প্রমাণ করে একটি সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় রয়েছে। বনবিভাগের নিয়মিত টহল ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ছাড়া এই তৎপরতা থামানো কঠিন।

সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় অবৈধ শিকার ও অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে এখনই সর্বোচ্চ কঠোরতা প্রয়োজন নইলে অপরাধীদের দুঃসাহস আরও বাড়বে।