
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে সাংবাদিকরা এখন মুক্তভাবে সরকারের সমালোচনা করতে পারছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
গণমাধ্যম ও যোগাযোগ উন্নয়ন সংগঠন ‘সমষ্টি’, ইউনেস্কো গ্লোবাল মিডিয়া ডিফেন্স ফান্ডের সহায়তায় আয়োজিত ‘জার্নালিস্ট সাপোর্ট ডেস্ক হ্যান্ডওভার’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শফিকুল আলম বলেন, সাংবাদিকরা কতটা স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করছেন, তা নিজেদেরই ভেবে দেখা উচিত। তিনি বলেন, অনেক সময় আমরা সরকারের সমালোচনা করি, কিন্তু প্রকৃত দায়ীদের কিংবা অন্যদের ব্যর্থতার কথাও তুলে ধরা প্রয়োজন।
জুলাই অভ্যুত্থানে ছয়জন সাংবাদিক নিহত হওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রেস সচিব বলেন, নিহত সাংবাদিকদের কারও কাছে পর্যাপ্ত সুরক্ষা সামগ্রী ছিল না, এমনকি সাধারণ হেলমেটও ছিল না। তিনি সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ইস্যুতে মালিকপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ—নোয়াবের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তারা বড় বড় সম্মেলন করলেও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা সরঞ্জাম বা নিহত সাংবাদিকদের বিষয়ে কার্যকর কোনো অবস্থান নেননি।

শফিকুল আলম আরও বলেন, সাংবাদিকদের অ্যাসাইনমেন্টে পাঠানো মালিকপক্ষের বড় দায়িত্ব রয়েছে। সেই দায়িত্ব তারা কতটা পালন করছে, সে বিষয়ে সাংবাদিকদেরই সোচ্চার হতে হবে। তিনি সাংবাদিকদের ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে বলেন, ঐক্য যেন কেবল সুবিধাভোগী একটি গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। সবার জন্যই তা সমানভাবে প্রযোজ্য হতে হবে।
তিনি বলেন, দেশে সাংবাদিকতার জন্য কোনো সমন্বিত গাইডবুক নেই। বিশেষ করে সংবেদনশীল ইস্যু কাভারের সময় ঝুঁকি মোকাবিলার বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে ইউনেস্কো বাংলাদেশ কার্যালয়ের প্রধান ও প্রতিনিধি সুসান ভাইজ সভাপতিত্ব করেন। ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেলসহ সাংবাদিক সংগঠনের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অন্যান্য বক্তারা জানান, জার্নালিস্ট সাপোর্ট ডেস্ক থেকে ভবিষ্যতে সাংবাদিকদের আইনগত সহায়তা প্রদান করা হবে এবং মামলার ক্ষেত্রে বিনামূল্যে আইনি সহায়তা দেওয়া হবে।
